উৎসবমুখর ও বর্ণাঢ্য আয়োজনে বাংলা নতুন বছরকে স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউট (বাস্থই)।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দের প্রথম দিনে ‘এসো মাতি নতুনের আহ্বানে’ শীর্ষক দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে আইএবি সেন্টার প্রাঙ্গনে আয়োজিত এই বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে গান, কবিতা, পুতুলনাচ, উপজাতি শিল্পীদের নৃত্য, জাদু প্রদর্শনসহ নানা পরিবেশনায় উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। দিনব্যাপী এ আয়োজন পরিণত হয় আইএবি সদস্য ও তাদের পরিবারের জন্য এক আনন্দঘন “ফ্যামিলি ডে”-তে, যেখানে সবাই মিলেমিশে উপভোগ করেন নববর্ষের উৎসব।

বেলা ১১টায় অনুষ্ঠানের সূচনা হয় এবং আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন সংগঠনের সভাপতি স্থপতি অধ্যাপক ড. আবু সাইদ এম আহমেদ। এ সময় সংগঠনের সহসভাপতি (জাতীয় বিষয়াবলী) স্থপতি নওয়াজীশ মাহবুব, সাধারণ সম্পাদক স্থপতি অধ্যাপক ড. মাসুদ উর রশিদ, সহসাধারণ সম্পাদক স্থপতি অধ্যাপক ড. নওরোজ ফাতেমি, সম্পাদক (পেশা) স্থপতি ওয়াহিদ আসিফ, সম্পাদক (সদস্যপদ) স্থপতি আহসানুল হক রুবেল, সম্পাদক (প্রচারণা ও প্রকাশনা) স্থপতি শফিউল আজিম শামীম, সম্পাদক (সেমিনার) স্থপতি সাইদা আক্তার, সম্পাদক (ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি) স্থপতি কাজী শামীমা শারমীনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনের পর ইনস্টিটিউটের মাল্টিপারপাস হলরুমে শুরু হয় বৈশাখী মেলা। ঢাকীদের একটি দল ঢাক বাজিয়ে পুরো মেলা প্রাঙ্গণ প্রদক্ষিণ করে উৎসবে ভিন্ন মাত্রা যোগ করে। পাশাপাশি আয়োজন করা হয় ‘মীনা বাজার’, শিশুদের চিত্রাঙ্কন উৎসব ও মৃৎশিল্প কর্মশালা, যা শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
অন্যদিকে ‘টিয়া পাখির গণনা’, বায়োস্কোপসহ নানা ঐতিহ্যবাহী আয়োজন উপভোগ করেন অংশগ্রহণকারী স্থপতি ও তাদের পরিবারের সদস্যরা—যা শিশুদের পাশাপাশি বড়দের মধ্যেও ব্যাপক আনন্দ ও কৌতূহল সৃষ্টি করে।

দুপুর ২টায় অনুষ্ঠিত হয় বর্ণাঢ্য ও ঐতিহ্যবাহী বাঙালিয়ানা ভোজ, যা ছিল পুরো দিনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। সম্পূর্ণ দেশীয় স্বাদের সমন্বয়ে সাজানো এই ভোজে পরিবেশন করা হয় বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী খাবারের সমৃদ্ধ আয়োজন—পান্তা-ইলিশসহ বিভিন্ন দেশীয় পদ। এই পর্বে অংশগ্রহণকারী সদস্য ও তাদের পরিবারের সবাই একসাথে বসে গ্রামীণ বাংলার স্বাদ ও ঐতিহ্যকে নতুন করে অনুভব করেন।
বিকাল ৩টায় শুরু হয় সাংস্কৃতিক পর্ব। এতে সংগীত পরিবেশন করেন স্থাপত্য অধিদপ্তরের প্রধান স্থপতি আসিফুর রহমান ভূঁইয়াসহ ‘বুয়েটিয়ান গান আড্ডা’র সদস্যরা। এছাড়াও নৃত্য পরিবেশন করে উপজাতি শিল্পীদের দল ‘কালারস অব হিলস’, পুতুলনাচ প্রদর্শন করে ‘কাকতাড়ুয়া পাপেট থিয়েটার’, জাদু প্রদর্শন করেন বৈরাগী সুজন। আবৃত্তি পরিবেশন করেন স্থপতি রাফি উদ্দিন মাহমুদ ও স্থপতি নায়না তাসনিম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন স্থপতি সৈয়দ তাওসিফ মোনাওয়ার ও স্থপতি সামিয়া শারমিন ।
অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বাস্থই সাধারণ সম্পাদক স্থপতি অধ্যাপক ড. মাসুদ উর রশিদ। সহ-আহ্বায়কবৃন্দ এবং এক্সিকিউটিভ কাউন্সিলের সংশ্লিষ্ট সদস্যদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় পুরো আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন হয়।

ভেন্যু ডেকোরেশন, লজিস্টিকস, খাবার ও আপ্যায়ন ব্যবস্থাপনায় দায়িত্ব পালন করেন স্হপতি মোঃ সোয়েব উল আলম অলিভ। এবং স্থপতি আহসানুল হক রুবেল। মীনা বাজার, শিশুদের কার্যক্রম, ব্র্যান্ডিং ও রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থাপনায় দায়িত্ব পালন করেন স্থপতি অধ্যাপক ড. নওরোজ ফাতেমি এবং স্থপতি মোঃ শফিউল আজম শামীম। সাংস্কৃতিক পর্ব ও মঞ্চ ব্যবস্থাপনায় দায়িত্ব পালন করেন স্থপতি কাজী শামীমা শারমীন এবং স্থপতি সাইদা আক্তার মমু।
সাংস্কৃতিক পর্ব শেষে সমাপনী বক্তব্য ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনের মাধ্যমে (vote of thanks) অনুষ্ঠানটির আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করেন আহ্বায়ক স্থপতি অধ্যাপক ড. মাসুদ উর রশিদ।

দিনব্যাপী এই আয়োজন বাস্তবায়নে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করা সকল আয়োজক, সহ-আয়োজক, শিল্পী, অংশগ্রহণকারী, স্বেচ্ছাসেবক এবং সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউট আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছে।
সান্ধ্যকালীন জলখাবারের মধ্য দিয়ে আনন্দঘন, উৎসবমুখর ও পারিবারিক আবহে এই বর্ষবরণের সমাপ্তি ঘটে, যেখানে সদস্য ও তাদের পরিবারের সকলে নববর্ষের আনন্দকে একসাথে স্মরণীয় করে তোলেন।