গত ২৩ এপ্রিল ২০২৬, বৃহস্পতিবার বিকাল ৪:৩০ মিনিটে, বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউট (বাস্থই) চট্টগ্রাম চ্যাপ্টার-এর ১২তম কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত হলো এক অনন্য স্থাপত্য আলোচনা সভা। সেমিনারের শিরোনাম ছিল: “Tropicality: Interwoven Realities – Selected Projects by Nakshabid Architects”।
মূল বক্তা ছিলেন দেশের প্রখ্যাত স্থপতি, Ar. Bayejid Mahbub Khondker, Principal Architect, Nakshabid Architects, Dhaka। তিনি BUET থেকে ১৯৯৬ সালে স্নাতক সম্পন্ন করেন এবং দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় সংস্কৃতি, জলবায়ু ও কমিউনিটির সাথে গভীর সংযোগ রেখে কাজ করছেন। তাঁর স্থাপত্যচর্চা বিশেষভাবে পরিচিত পরিবেশবান্ধব ও প্রেক্ষিতনির্ভর নকশার জন্য।
সেমিনারে তিনি তাঁর সম্পাদিত বিভিন্ন স্থাপত্য প্রকল্পের অভিজ্ঞতা ও নকশাগত দর্শন অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে ভাগ করে নেন। প্রেজেন্টেশনটি তিনি থিমভিত্তিক ভাগে উপস্থাপন করেন, যেখানে প্রতিটি প্রকল্পের মাধ্যমে স্থাপত্যের ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরা হয়।
প্রথমে তিনি তাঁর কমার্শিয়াল প্রকল্প নিয়ে আলোচনা করেন—যেখানে কার্যকারিতা, ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা এবং সমসাময়িক নান্দনিকতার সমন্বয় কীভাবে একটি সফল বাণিজ্যিক স্থাপত্য গড়ে তোলে তা ব্যাখ্যা করেন। এরপর তিনি ল্যান্ডস্কেপ প্রকল্পসমূহ উপস্থাপন করেন, যেখানে পরিত্যক্ত বা অব্যবহৃত স্থানকে সৃজনশীল নকশার মাধ্যমে প্রাণবন্ত পাবলিক স্পেসে রূপান্তর করার উদাহরণ তুলে ধরেন। একইসঙ্গে তিনি দেখান কীভাবে ডিজাইনের মাধ্যমে স্থানীয় মানুষকে সেই স্থানের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা যায়।

রিলিজিয়াস আর্কিটেকচার অংশে তিনি pure form-এর ব্যবহার এবং আলোকে একটি গুরুত্বপূর্ণ নকশা উপাদান হিসেবে প্রয়োগের বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব দেন। তিনি ব্যাখ্যা করেন, কীভাবে উপাদানের স্বতঃস্ফূর্ত প্রকাশ এবং আলোর সুনিপুণ ব্যবহার একটি আধ্যাত্মিক পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারে।
রেসিডেন্সিয়াল প্রকল্পগুলোতে তিনি ট্রান্সপারেন্সি, মেটালক্রাফটিং এবং অভ্যন্তরীণ স্পেসের নতুন ব্যাখ্যা নিয়ে আলোচনা করেন। বিশেষ করে ডাইনিং স্পেসকে কীভাবে একটি প্রাণবন্ত ও ঘটনাবহুল স্থানে রূপান্তর করা যায়, সে বিষয়ে তাঁর নকশাগত দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। পাশাপাশি প্রচলিত সীমানা প্রাচীরের ধারণা ভেঙে দিয়ে সবুজায়ন ও পানির ব্যবহার করে কীভাবে একটি নিয়ন্ত্রিত অথচ উন্মুক্ত পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব, তাও তিনি ব্যাখ্যা করেন।
এছাড়াও তিনি কিছু unbuilt প্রকল্প এবং পাবলিক বিল্ডিং ডিজাইনের পেছনের ভাবনা ও প্রক্রিয়া তুলে ধরেন, যেখানে নকশার সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক চ্যালেঞ্জগুলো স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সেশনের শেষাংশে তিনি তাঁর RIBA পুরস্কারপ্রাপ্ত রংপুরের “কারুপণ্য” প্রকল্পের নকশার গল্প উপস্থাপন করেন। তিনি ব্যাখ্যা করেন, কীভাবে এই নকশা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সামাজিক সমতা প্রতিষ্ঠা এবং প্রকৃতিনির্ভর স্থাপত্যচর্চাকে আরও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে।
সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন বাস্থই ২৬তম নির্বাহী কমিটির সেক্রেটারি সেমিনার পদাধিকারী স্থপতি সাইদা আক্তার মুমু, বাস্থই চট্টগ্রাম চ্যাপ্টারের ১২তম কমিটির সদস্যবৃন্দ: স্থপতি মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান চৌধুরী (সম্পাদক), স্থপতি অনিকেত চৌধুরী (সদস্য – পেশা), স্থপতি মঈনুল হাসান তুহীন (সদস্য – সেমিনার ও শিক্ষা), স্থপতি শায়লা আহমেদ (সদস্য – ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি), স্থপতি সাইফুদ্দিন চৌধুরী (সদস্য- প্রকাশনা ও প্রচার)। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সিনিয়র স্থপতি জেরিনা উদ্দিন হোসেন, স্থপতি তুহিন বড়ুয়া, স্থপতি সজীব পাল, স্থপতি হাসিনা সাম্রিনা হক এবং আরো অনেক পেশাজীবী স্থপতি, ছাত্র-ছাত্রীসহ প্রায় ৮০ জনেরও বেশি অংশগ্রহণকারী।
উল্লেক্ষ্য, সেমিনারটির স্পন্সর প্রতিষ্ঠান ছিল এশিয়ান পেইন্টস।
অনুষ্ঠান শেষে আয়োজকদের পক্ষ থেকে বক্তাকে এবং স্পন্সর প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিকে উত্তরীয় ও সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।