IAB

“স্থাপত্য ও দর্পণে স্থপতি” শীর্ষক একটি সেমিনার সিরিজের আয়োজন

গত ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, রবিবার, সন্ধ্যা ৬:৩০টা থেকে রাত ৯:৩০টা পর্যন্ত বাংলাদেশ স্থপতি ইনসটিটিউট (বাস্থই)-এর মাল্টিপারপাস হলে “স্থাপত্য ও দর্পণে স্থপতি” শীর্ষক একটি সেমিনার সিরিজের সূচনা হয় যার প্রথম আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, নগর নকশা ও পরিকল্পনাবিদ স্থপতি হারুন উর রশীদ। তিনি তাঁর দীর্ঘ পেশাগত জীবনের অভিজ্ঞতা, কাজের দর্শন, স্থাপত্য ভাবনা এবং নবীন স্থপতিদের উদ্দেশে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা এই সেমিনারে তুলে ধরেন।
এশিয়ান পেইন্টস (বাংলাদেশ) লিমিটেড এর সৌজন্যে আয়োজিত এই সেমিনারে অনলাইন রেজিস্ট্রেশন করেন ১৫৭ জন এবং অন-স্পট রেজিস্ট্রেশনসহ মোট প্রায় ২৫০ জন স্থপতি অংশগ্রহণ করেন। দেশের বহু সিনিয়র স্থপতির উপস্থিতি অনুষ্ঠানটিকে আরও সমৃদ্ধ করে তোলে।
স্থপতি হারুন উর রশীদ বলেন, স্থাপত্যচর্চা কেবল নকশা নির্মাণের প্রক্রিয়া নয়; এটি পরিবেশকে সুন্দর ও মানবিক করে তোলার এক শক্তিশালী মাধ্যম। স্থাপত্য মানুষের আবেগ, মনস্তত্ত্ব, সামাজিক বাস্তবতা ও ইতিহাসের ভৌত স্মৃতিকে ধারণ করে।
দেশের নগর উন্নয়ন, পানি ব্যবস্থাপনা ও স্যানিটেশন খাতে তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে কাজ করা এই প্রখ্যাত স্থপতি আন্তর্জাতিক সংস্থা যেমন World Bank, UNDP ইত্যাদির সঙ্গে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে কাজ করেছেন। তিনি বাংলাদেশের নগর পরিকল্পনা ও স্যানিটেশন উন্নয়নে দীর্ঘদিন উপদেষ্টা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তিনি ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (BUET) থেকে স্থাপত্যে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন এবং মেধা তালিকায় প্রথম স্থান অর্জন করেন। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের University of Hawaii at Manoa থেকে আরবান ডিজাইনে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। এছাড়া Harvard University থেকে আরবান ফিন্যান্স, অবকাঠামো উন্নয়ন ও হাউজিং বিষয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। তিনি বাংলাদেশ স্থপতি ইনসটিটিউট (বাস্থই) এর সহ-সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (BNBC) ১৯৯৩-এর সম্পাদকীয় বোর্ড এর সদস্য ছিলেন। ১৯৯৭ সালে ২০-তলা বিশিষ্ট সেনাকল্যাণ ভবনের নকশার জন্য তিনি IAB Design Excellence Award অর্জন করেন।
সেমিনারে তিনি উন্নয়ন খাতে কাজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করতে হলে তাদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ ও সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করতে হবে। অংশগ্রহণমূলক পরিকল্পনা ছাড়া ন্যায়ভিত্তিক ও কার্যকর স্থাপত্য সম্ভব নয়। এছাড়াও তিনি নিজের পেশাগত জীবনের নানা স্মৃতি ও অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন, যা নবীন ও প্রবীণ, উভয় প্রজন্মের স্থপতিদের অনুপ্রাণিত করে।
সার্বিকভাবে, “স্থাপত্য ও দর্পণে স্থপতি” সেমিনার সিরিজটি পেশাগত আত্মপ্রতিফলন, প্রজন্মের মধ্যে সংলাপ এবং স্থাপত্যচর্চার মানবিক দর্শন পুনর্বিবেচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। সেশনের শেষে প্রশ্নোত্তর পর্বে উপস্থিত স্থপতিরা নিজেদের অভিজ্ঞতা ও প্রশ্ন উপস্থাপন করেন, যা সেমিনারটিকে আরও সমৃদ্ধ করে এবং সেমিনারে অংশগ্রহণকারী স্থপতিগণ নিজেদের মতামত শেয়ার করেন। স্থপতিবৃন্দের এই সক্রিয় আলোচনা সেশনটিকে আরও সমৃদ্ধ করে তোলে।
সেমিনারটি সঞ্চালনা করেন ২৬তম নির্বাহী পরিষদের সম্পাদক (সেমিনার ও কনভেনশন) স্থপতি সাইদা আক্তার। সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন বাস্থই সভাপতি স্থপতি অধ্যাপক ড. আবু সাঈদ এম আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক স্থপতি ড. মাসুদ উর রশিদ। এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দেশের বহু জ্যেষ্ঠ স্থপতিগণ। সেমিনারের সমাপনী পর্বে বাস্থই’র সম্মানিত সভাপতি স্থপতি ড. আবু সাঈদ এম আহমেদ মূল বক্তাকে ক্রেস্ট ও প্রতিকৃতি প্রদান করেন। পুরো সেশনটি পরিচালনায় মডারেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন স্থপতি মোহাম্মদ মাহমুদুর রহমান মাসুম। সবশেষে ধন্যবাদ জ্ঞাপন বক্তব্যের মাধ্যমে স্থপতি ড. মাসুদ উর রশিদ অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
Scroll to Top