বাংলাদেশ আর্ক-সামিট–২০২৫ উপলক্ষে বাংলাদেশ স্থপতি ইন্স্টিটিউট (বাস্থই) আয়োজিত বিশেষ স্থাপত্য প্রদর্শনী ‘স্থান–কাল–পাত্র’ সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রদর্শনীটি স্থাপত্যকে কেবল নির্মাণ প্রক্রিয়া হিসেবে নয়, বরং মানুষের জীবন, স্মৃতি, সময় ও সামাজিক বাস্তবতার সঙ্গে সম্পৃক্ত একটি সাংস্কৃতিক অনুশীলন হিসেবে উপস্থাপন করে।

প্রদর্শনীতে অন্তর্ভুক্ত প্রকল্পগুলোতে বাংলাদেশের সমসাময়িক স্থাপত্যচর্চার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। স্থানীয় প্রেক্ষাপট, মানুষের জীবনযাপন, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বাস্তবতা কীভাবে স্থাপত্যের নকশা ও ধারণায় প্রতিফলিত হয়, তা প্রদর্শিত কাজগুলোর মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়। নগর ও গ্রামভিত্তিক প্রকল্প, ঐতিহ্য ও আধুনিকতার সংযোগ এবং দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে স্থাপত্যের সম্পর্ক ছিল প্রদর্শনীর মূল আলোচ্য বিষয়।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘স্থান–কাল–পাত্র’ প্রদর্শনীর লক্ষ্য ছিল স্থাপত্য ও মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ককে সহজ ও বোধগম্যভাবে উপস্থাপন করা এবং সাধারণ দর্শকদের কাছে স্থাপত্যচর্চার বিষয়গুলো তুলে ধরা। এই আয়োজন দর্শকদের নিজেদের চারপাশের নির্মিত পরিবেশ সম্পর্কে নতুনভাবে ভাবতে ও সচেতন হতে উদ্বুদ্ধ করে।
নগরবাসীর দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে প্রদর্শনীকে সরাসরি যুক্ত করার উদ্দেশ্যে ঢাকার চারটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এই আয়োজন করা হয়। স্থানগুলো হলো—বিসিএফসিসি, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ ভবনের উত্তর প্লাজা সংলগ্ন ফুটপাথ প্রাঙ্গণ, উত্তরা উত্তর মেট্রোরেল স্টেশন সংলগ্ন ফুটপাথ প্রাঙ্গণ এবং নর্থব্রুক হল (লালকুঠি) প্লাজা। প্রতিটি সার্বজনিক স্থানের প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে সেখানে সংশ্লিষ্ট ধরণের স্থাপত্যকর্ম প্রদর্শন করা হয়। এর অংশ হিসেবে পুরান ঢাকার নর্থব্রুক হল (লালকুঠি) প্লাজায় পুরান ঢাকায় বাস্তবায়িত স্থাপত্য প্রকল্পগুলো প্রদর্শিত হয়, যা ওই এলাকার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও নগর-জীবনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত।

প্রদর্শনীর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিসিএফসিসি ও নর্থব্রুক হল (লালকুঠি) প্লাজায় ‘মানুষ ও স্থাপত্য’ শীর্ষক একটি উন্মুক্ত আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। বিপুল সংখ্যক আলোকচিত্র জমা পড়ার পর সেখান থেকে নির্বাচিত ৫০টি আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে স্থান পায়, যেখানে মানুষের সঙ্গে স্থাপত্যের বহুমাত্রিক সম্পর্ক তুলে ধরা হয়।
প্রদর্শনীটি শুরু হয় ডিসেম্বরের ১১ তারিখ থেকে। প্রাথমিকভাবে ১১, ১২ ও ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত আয়োজনের পরিকল্পনা থাকলেও জনসাধারণের ইতিবাচক সাড়া ও আগ্রহের কারণে প্রদর্শনীর সময়সীমা বাড়িয়ে ১৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়। কয়েকদিনব্যাপী এই আয়োজনে সাধারণ দর্শকদের অংশগ্রহণ ও উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
