IAB

লালকুঠি ভেন্যুতে ‘স্থান–কাল–পাত্র’ স্থাপত্য প্রদর্শনীর সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত।

বাংলাদেশ আর্ক-সামিট–২০২৫ উপলক্ষে বাংলাদেশ স্থপতি ইন্সটিটিউট (বাস্থই) আয়োজিত বিশেষ স্থাপত্য প্রদর্শনী ‘স্থান–কাল–পাত্র’-এর সমাপনী অনুষ্ঠান ১৭ ডিসেম্বর ঢাকার ঐতিহাসিক লালকুঠি ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হয়। সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক জনাব মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান এনডিসি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট নগর পরিকল্পনাবিদ স্থপতি সিরাজুল ইসলাম।
সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক জনাব মো. মাহমুদুল হাসান এনডিসি, এমন একটি সময়োপযোগী ও অর্থবহ আয়োজনের জন্য বাংলাদেশ স্থপতি ইন্সটিটিউট (বাস্থই) ও উপস্থিত সকল স্থপতিদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। তিনি ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন আরও বিস্তৃত পরিসরে করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। নগর পরিকল্পনা ও জনপরিসর গঠনে স্থপতিদের প্রাঞ্জল ও সক্রিয় উপস্থিতির ওপর তিনি বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে নগর পরিকল্পনাবিদ স্থপতি সিরাজুল ইসলাম বলেন, নগরের সামাজিক বাস্তবতা ও মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় রেখে পরিকল্পনা গ্রহণ করা সময়ের দাবি। ‘স্থান–কাল–পাত্র’ প্রদর্শনীটি স্থাপত্যকে একটি জীবন্ত সাংস্কৃতিক অনুশীলন হিসেবে তুলে ধরেছে, যা ভবিষ্যৎ নগর পরিকল্পনার জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হতে পারে।
স্বাগত বক্তব্যে বাংলাদেশ আর্ক সামিট-এর আহ্বায়ক স্হপতি কাজী এম আরিফ বলেন, নগরবাসীর দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করার লক্ষ্যে ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উন্মুক্ত স্থানে কয়েকটি স্হাপত্য প্রদর্শনী আয়োজন করা হয়েছে।
মহানগরীর ফরাশগঞ্জের লালকুঠি প্রাঙ্গনে আয়োজিত প্রদর্শনী ‘স্থান–কাল–পাত্র’-তে উপস্থাপিত প্রকল্পসমূহে বাংলাদেশের পুরান ঢাকায় অবস্থিত স্থাপত্যচর্চার বহুমাত্রিক দিক প্রতিফলিত হয়েছে। এখানে স্থানীয় প্রেক্ষাপট, সময়ের পরিবর্তন, মানুষের জীবনযাপন ও সামাজিক বাস্তবতার সঙ্গে স্থাপত্যের গভীর সম্পর্ক ফুটে উঠেছে।
শুভেচ্ছা বক্তব্যে বাংলাদেশ স্থপতি ইন্সটিটিউট (বাস্থই)-এর সভাপতি স্হপতি ড. আবু সাইদ এম আহমেদ জনগনের সাথে স্হপতিদের সম্পৃক্ততার উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।
তিনি আরও বলেন, লালকুঠির মতো ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে প্রদর্শনীর আয়োজন দর্শনার্থীদের মধ্যে বিশেষ আগ্রহ ও সাড়া তৈরি করে।
প্রদর্শনী আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে স্হপতি দিদারুল ইসলাম ভুইয়া জানান, সাধারণ মানুষের কাছে স্থাপত্য ও নগর ভাবনার বিষয়গুলো সহজভাবে উপস্থাপন করা এবং নির্মিত পরিবেশ সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করাই এই প্রদর্শনীর মূল লক্ষ্য।
নগরের গুরুত্বপূর্ণ জনপরিসরে, ঐতিহ্যবাহী স্হানে প্রদর্শনী আয়োজনের মাধ্যমে স্থপতি, পরিকল্পনাবিদ ও নগরবাসীর মধ্যে একটি কার্যকর সংলাপ তৈরি হয়েছে ।
সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ‘স্থান–কাল–পাত্র’ প্রদর্শনী সফলভাবে সমাপ্ত হলেও, নগর ও স্থাপত্য নিয়ে এই আলোচনা ও ভাবনার ধারাবাহিকতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন বা স্ব ই সাধারন সম্পাদক ড. মাসুদ উর রশিদ । প্রদর্শনের এই সমাপনী অনুষ্ঠানে বাস্থই সহ সভাপতি স্থপতি নওয়াজিশ মাহবুব, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সম্পাদক কাজী শামীমা শারমীন সহ অনেক স্থপতি ও সাধারন জনগণ উপস্থিত ছিলেন।
Scroll to Top